কেন জাফর ইকবাল স্যাররে দেখলে পালায়ে যাইতে হয়

এক মেয়ে এসে আমাকে বলল সে জাফর ইকবাল এর অটোগ্রাফ নিতে চায়। লজ্জায় বলতে পারতেছে না।

বিমান বাংলাদেশে একদিন…

এয়ারপোর্ট থেকেই শুরু করি। আমি কোলকাতা থেকে ঢাকা ফিরব। এবং সেইদিন আমাকে ঢাকায় ফিরতেই হবে।

এর আগের তিনদিন ধরে আমি ইন্ডিয়ার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ফ্লাই করে বেড়াচ্ছি। আমার পরনে একটা সাদা টি-শার্ট আর একটা নীল জিন্স, আর গলায় ঝুলানো একটা ছোট্ট ব্যাগ যেখানে পাসপোর্ট, টিকেট আর মোবাইল রাখা। ব্যাগেজ বলতে একটা এম সাইজ লাগেজ আর একটা একদম খালি শোল্ডার ব্যাগ যেটা আমি এয়ারপোর্ট থেকে শপিং করা জিনিস রাখার জন্যই খালি করে আনছিলাম। এয়ারপোর্ট থেকে নানা রকম জিনিস কিনে কিনে ওই শোল্ডার ব্যাগ আমার কাঁধের চেয়েও ভারি হয়ে গেল, কিন্তু প্লেনের কোনো খোঁজ তখনও পাওয়া গেল না।

বিমান বাংলাদেশের পৌনে এগারোটার প্লেনে উঠলাম দুই ঘণ্টা পরে পৌনে একটায়। এই দুই ঘণ্টায় এয়ারপোর্টের স্ক্রিনে যতগুলি প্লেনের ফ্লাইট ছিল তার মধ্যে শুধু দুইটা প্লেনের ফ্লাইট ডিলে। দুইটাই বাংলাদেশে যাবে, দুইটাই বাংলাদেশের প্লেন। একটা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, আরেকটা বাংলাদেশ বিমান।

যাই হোক, আমার সিট সামনের দিকেই, জানালার পাশে। গত তিনদিনের বিশ্বব্যাপী ফ্লাইটে ‘দুইজনের সিট’ এর দেখা পাই নাই। সেই বিমানগুলিতে ছিল তিন সিট একসাথে। সে ফ্লাইটগুলি ছিল সুন্দর সুন্দর সব ছেলে যাত্রীতে পরিপূর্ণ এবং তখন আমার মা আমার সাথে ছিল। ওইসব যাত্রায় সবসময়ই কোনো না কোনো সুন্দর ছেলের সিট ছিল আমাদের দুজনের সিটের সাথে। আর এখানে বলে রাখা ভালো, আমার মা সবসময়ই মাঝখানের সিটে বসে, জানালার পাশের সিট তার পছন্দের না।

আর যখন আমি রিটার্ন ফ্লাইটে ফেরা শুরু করলাম, তখন প্রথম ফ্লাইটে আমার পাশে বসলেন একজন সত্তরের কাছাকাছি বুড়ো, যার বাড়ি কেরালা বলে ধারণা করি (তার কথা বলার টোন থেকে), পরের ফ্লাইটে একজন সর্বদা পান-জর্দা চিবানো সত্তরোর্ধ্ব বুড়ি, যিনি ফ্লাইটে পুরা পানের বাটা নিয়ে হাজির ছিলেন এবং তারও পরের ফ্লাইটে পাশে ছিল একজন ‘বাংলাদেশি মেয়ে ঘৃণাকারি’ কোলকাতার বাঙালি মহিলা, যিনি একাই ফ্লাই করতেছিলেন তবু উনার গয়নাগাটির পরিমাণ দেখে আমি ধারণা করছিলাম যে উনি হানিমুনে যাচ্ছেন। আলাপে আলাপে উনি বলেই ফেললেন—উনি বাংলাদেশের মেয়েদের ঘৃণা করেন, কারণ তার ভাইকে বাংলাদেশের এক মেয়ে ‘পটিয়ে’ বিয়ে করে ঢাকায় নিয়ে গেছে। সে মেয়ে কিছুতেই জামাইয়ের বাড়ি কোলকাতায় থাকবে না। তাই তার বড় ভাই, পরিবার পরিজন ছেড়ে এখন থাকে ঢাকা। আর তাই বাংলাদেশের মেয়েদের তিনি এক কথায় ‘ঘৃণা করেন’।

যাই হোক, বাংলাদেশ বিমানে বেশিরভাগ যাত্রীই বয়স্ক, তার ওপর রোগী। মহিলারা আছেন বাচ্চাকাচ্চা সমেত। আমার বয়সী কোনো মেয়ে যাত্রী দেখা গেল না। আর আমার পাশের সিটের যাত্রীকে তখনো দেখা গেল না। বিমানের শেষ বাসে তিনজন যাত্রী আসলেন। তিনজনই লম্বা জোব্বা পরা, মুখে লম্বা দাঁড়ি, বয়সে বেশ প্রবীণ। তার মধ্যে একজন আবার হাতে ছয়টা নানান সাইজের পোটলা (পোটলা বললাম কারণ ওগুলাকে ব্যাগ বললে ভুল হবে আর প্যাকেটও ঠিক মানানসই শব্দ না ওগুলার জন্য) নিয়ে আমার সিটের দিকে আগায়ে আসতেছেন। আমি তার হাতের ছয় ছয়খান প্যাকেট দেখে, জীবনে যত বাস-ট্রেন-প্লেন ভ্রমণ করছি সেই অভিজ্ঞতার নিরিখে বুঝে নিলাম—উনিই আমার সহযাত্রী।

উনি আমার পাশে এসে বসলেন। উনার পায়ের মাঝখানের জায়গায় কষ্টেসষ্টে দুইটা পোটলা রাখলেন। আমার সাথে এক ছোট্ট হ্যান্ডব্যাগ থাকায় তার বাকি চারব্যাগের একখান আমার সিটের নিচে রাখার অনুরোধ করলেন। আমি ভাবলাম, বড়জোর পঁয়তাল্লিশ মিনিটেরই তো ফ্লাইট, থাক, রাখুক। এরপর পিছনের দুই সিটের যাত্রীকে অনুরোধ করে তার বাকি গাট্টিবোঁচকার একটা ব্যবস্থা করা হল।

দোয়া মোনাজাত পাঠ শুরু হল। এয়ারহোস্টেজ তার অদ্ভুত রঙের লিপস্টিক সমেত আমাদের স্বাগত জানালেন। দুইজন কেবিন ক্রু এই ফ্লাইটে। একজন মহিলা, একজন পুরুষ। তাদের চেহারা মনে পড়লেই আমি জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ি। এতই হতাশ হয়ে পড়ি যে এইটুকু লাইন লেখার পরে আবার এই লেখা শুরু করতে আমার তিনদিন সময় নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তাদের সম্পর্কে, তাদের ইংরেজি উচ্চারণ ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে; এমনকি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আর একটাও লাইন না লিখব না বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। 

Read moreবিমান বাংলাদেশে একদিন…

ভুলোমন

বেশিরভাগ সময়ই যে ক্লাস পাস করলাম, সে ক্লাসের বইই বাবা আবার কিনে আনত।

দুর্গাপূজার ছুটিতে

তখন দুর্গাপূজার ছুটিতে আমরা সবসময় দাদুর বাড়ি যাই।… দাদুর যে গ্রাম—আনোয়ারা জয়কালীহাট, সেটা একটা অসাধারণ সুন্দর গ্রাম।

শার্লক হোমস

আমি শুয়ে শুয়ে এখান থেকে কীভাবে পালাবো ভাবছি। আর ভান করছি গভীর ঘুমের। এমন সময় একটা লোক এসে ঢুকল ঘরে।

টয়লেট খুঁজতে গিয়ে মৃত্যু হলো দুই কিশোরীর—লজ্জিত না, ক্রুদ্ধ হওয়া উচিত আমাদের!

লজ্জায় লাল হওয়া বন্ধ করে আমাদের উচিত এটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা। এটা লজ্জার বিষয় না, বরং ক্রুদ্ধ হওয়ার মত বিষয়।